ঢাকা , বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬ , ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আ.লীগ সমর্থিত ভোটারদের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে প্রবীনে ত্রিমুখী লড়াই জমে উঠেছে নির্বাচনী মাঠ


আপডেট সময় : ২০২৬-০২-০৬ ২৩:২৫:২৮
আ.লীগ সমর্থিত ভোটারদের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে প্রবীনে ত্রিমুখী লড়াই জমে উঠেছে নির্বাচনী মাঠ আ.লীগ সমর্থিত ভোটারদের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে প্রবীনে ত্রিমুখী লড়াই জমে উঠেছে নির্বাচনী মাঠ
 
 
রাণীশংকৈল ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি :
 
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঠাকুরগাঁও-৩ (রাণীশংকৈল–পীরগঞ্জ) আসনে ভোটের উত্তাপ দিন দিন বাড়ছে। হাট-বাজারও গ্রামগুলোতে জনসভায় প্রার্থীদের সরব উপস্থিতি এবং ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে নির্বাচনী মাঠে তৈরি হয়েছে প্রাণচাঞ্চল্য। বিশ্লেষকদের ধারণা আওয়ামীলীগ সমর্থিত ভোটাররা যে দিকে ঝুকবেন তিনিই নির্বাচিত হবে।
 
রাণীশংকৈল ও পীরগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত ঠাকুরগাঁও-৩ আসন। এ আসনে রয়েছে দুটি পৌরসভা ও ১৬টি ইউনিয়ন। নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৬৪ হাজার ১২৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮৪ হাজার ৭০১ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৭৯ হাজার ৪২৬ জন এবং তৃতীয়লিঙ্গ ভোটার রয়েছেন ২ জন। 
 
এ আসনে মোট ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁদের মধ্যে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী, বাকিরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনীত। তবে দিনযত ঘনিয়ে আসছে মাঠপর্যায়ে ভোটের লড়াই মূলত ত্রিমুখী হয়ে উঠেছে। লড়াইয়ের ময়দানে প্রধান তিন প্রার্থী হলেন, বিএনপি মনোনীত সাবেক সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমান (ধানের শীষ), পাঁচবারের সাবেক সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টি মনোনীত হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (লাঙ্গল) এবং জামায়াতে ইসলামী মনোনীত  মিজানুর রহমান (দাঁড়িপাল্লা)।
 
এ ছাড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন, আশা মনি (স্বতন্ত্র, ফুটবল), আবুল কালাম আজাদ (বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি, একতারা), মামুনুর রশিদ মামুন (গণঅধিকার পরিষদ, ট্রাক), আল আমিন (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, হাতপাখা), প্রভাত সমির ও শাহাজাহান আলম (বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, কাস্তে), কমলা কান্ত রায় (বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি, রকেট) এবং এস এম খলিলুর রহমান সরকার (বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, হারিকেন প্রতীক)। মাঠপর্যায়ে দেখা গেছে, প্রার্থীরা ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগে করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ ফেমেলি কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, কেউ পার্থী পাঁচবারের উন্নয়ন ও আওয়ীলীগ পূর্ণবাসনের কথা বলছেন। কেউ আবার বেকার ভাতা নয় বিনা পয়সায় চাকুরী ও উন্নয়নের আশ্বাস দিচ্ছেন।  আমজুয়ান গ্রামের জয়নাল আবেদীন, বিরাশি বাজারের মহেদুল, রাতোর এলাকার জাহাঙ্গীর ও মনতাজসহ বিভিন্ন ভোটারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জাতীয় পার্টির প্রার্থী হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এলাকায় সড়ক, ব্রিজ-কালভার্ট, মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দির, স্কুল ও কলেজ নির্মাণসহ অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। গরিব ও দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টিও ভোটাররা তুলে ধরেছেন। ভোটারদের মতে, কৃষিপ্রধান জেলা হওয়ায় কৃষকদের কথা বিবেচনায় নিয়ে প্রতিটি হাটের সঙ্গে সংযোগ সড়ক স্থাপন করায় কৃষিপণ্য ন্যায্যমূল্যে বিক্রি সহজ হয়েছে। 
 
এ ছাড়া ঠাকুরগাঁওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ও মেডিকেল কলেজ, কৃষকদের জন্য হিমাগার এবং পীরগঞ্জ ও রাণীশংকৈল উপজেলায় সরকারি উচ্চবিদ্যালয় ও সরকারি কলেজ স্থাপনের পরিকল্পনাও আলোচনায় রয়েছে। অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থী জাহিদুর রহমান মাঠে বেশ সক্রিয় রয়েছেন। দিচ্ছেন ফ্যামেলি কার্ড, স্কুল কলেজ মাদ্রাসার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি। পাড়া মহল্লাগুলোতে করছেন উঠান বৈঠক দলীয় লোকজন রাতদিন প্ররিশ্রম করেই চলছেন। একই সঙ্গে জামায়াতের প্রার্থী  মিজানুর রহমানও গণসংযোগে পিছিয়ে নেই। তিনি ইনসাফের রাষ্ঠ্র পরিচালনার কথা বলছেন ভোটারদের কাছে। এছাড়াও নারীদের মন কিছুটা কেড়ে নিয়েছে ধর্মীয় আলোচনায় পাড়া মহল্লাগুলোতে।

 রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঠাকুরগাঁও–৩ আসনের এই নির্বাচন শুধু একজন সংসদ সদস্য নির্বাচনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।

বরং এটি উত্তরাঞ্চলের রাজনীতিতে বিভিন্ন দলের সাংগঠনিক শক্তি, ভোটব্যাংক এবং জনসমর্থনের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরবে।

শেষ পর্যন্ত কারা এগিয়ে থাকবেন, তা নির্ধারিত হবে আওয়ামীলীগ সমর্থিত ভোটারদের সিদ্ধান্তের উপর । সেই সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় এখন ঠাকুরগাঁও-৩ আসন।
 
 

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

প্রতিবেদকের তথ্য

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ